শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

বিজ্ঞাপন

সারের ডিলারশিপে দলীয়করণের অভিযোগ সারজিসের

ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন টকশো
সারের ডিলারশিপে দলীয়করণের অভিযোগ সারজিসের

ছবি ঠিকানা

বিজ্ঞাপন
বিএনপি সরকার সম্প্রতি সারের নতুন ডিলার নিয়োগ করেছে। তবে সরকারি দলের নেতাকর্মী ছাড়া অন্য কেউ ডিলারশিপ পাননি বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তার অভিযোগ, সারের ডিলার নিয়োগে ব্যাপক দলীয়করণ হয়েছে।

ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন টকশোতে তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি ছাড়া কেউ কি সারের ডিলার হওয়ার যোগ্য ছিলেন না? প্রতিটা গুরুত্বপূর্ণ জায়গা এভাবেই বিএনপির লোকজন দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। সবকিছুতে দলীয়করণ হচ্ছে।’

২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবারের এই আলোচনা অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আরও ছিলেন চট্টগ্রাম-৭ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী। নিউইয়র্ক সময় বেলা ১২টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা) অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচারিত হয় ‘ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন’ ইউটিউব চ্যানেলে। রাজনীতি, সরকার ও প্রশাসনের নানা বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন দুই অতিথি।

সারের ডিলার নিয়োগে দলীয়করণের অভিযোগ মানতে নারাজ বিএনপির সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী। তিনি দাবি করেন, যোগ্যতা ও আবেদনের ভিত্তিতেই ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে। এনসিপির নেতাকর্মীরা আবেদন করলে এবং নিয়োগের শর্ত পূরণ করতে পারলে তাদেরও ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হতো বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বাজারে কৃত্রিম সার সংকট তৈরির জন্য পুরোনো ডিলারদের অনেকে মজুদদারিতে জড়িয়ে পড়ছেন বলেও অভিযোগ করেন হুম্মাম কাদের চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের একজন ডিলার গুদাম বন্ধ রেখেছিলেন। আমি নিজে পুলিশ নিয়ে গিয়ে অভিযান চালিয়েছি। এরপর গুদাম খুলে সার বিক্রি শুরু করতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। নতুন যারা ডিলার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন, তারা এখনো কাজ শুরু করতে পারেননি। নতুনরা কাজ শুরু করলে সংকট অনেকটা কমবে বলে আশা করছি।’

এদিকে যেসব আসনে বিরোধী দলের সংসদ সদস্য রয়েছেন, সেসব আসনে উন্নয়ন বরাদ্দের ক্ষেত্রে তাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন সারজিস আলম। তার দাবি, বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের সরকার অবহেলা করছে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনও অনেক ক্ষেত্রে তাদের এড়িয়ে চলছে। এ ক্ষেত্রে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

‘মূল বিষয় হচ্ছে, যেসব আসনে জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছেন, সেখানে স্থানীয় নির্বাচনে হারতে চায় না তারা। তাই বিরোধী দলের এমপিদের কোণঠাসা করে ফেলা হচ্ছে’, যোগ করেন সারজিস আলম।

আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামী দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে, এমন গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে- গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাজশাহীর এক জনসভায় এমন মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে বিরোধী দলকে দমনে বর্তমান সরকার পুরোনো নেতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি অনুসরণ করছে কি না, জানতে চাইলে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, বিরোধী দলের নেতাদের বিরুদ্ধে নয়, মূলত বিদেশে পালিয়ে থাকা রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে নজরদারি চালানো হচ্ছে। এ নজরদারি চালাতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে, বিদেশে অবস্থানরত ওই রাজনীতিকেরা দেশে বিরোধী দলের কারও কারও সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। এভাবেই বিষয়টি উদ্ঘাটিত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ঠিকানা/এনআই

নিউজটি শেয়ার করুন


© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Maintained by SolveEz